শনিবার, ৮ মার্চ, ২০১৪

আপনি Android Phone কিনতে চাইছেন? একটু এদিকে আসুন

Android দুনিয়াতে আপনাকে স্বাগতমঃ 


বেশ কিছু বড় ভাইয়েরা আমার কাছে Android ফোন কেনার আগে পরামর্শ চাইতে আসেন। কাউকে সাহায্য করতে পারি। কাউকে ততটা পারিনা। তাই ভেবে দেখলাম অনেকেই আছেন যারা Android ফোন কেনার আগে যাচাই বাছাই করতে ইচ্ছুক, তবে তেমন সাহায্যকারী মানুষ পাননা (আমি ভুলও হতে পারি)। অনেকে আছেন ফোনের User Review দেখতে টেকটিউনসে ঢুঁ মারেন। তাই তাদের সুবিধার্থে কিছু জিনিস আলোকপাত করার চেষ্টা করলাম, যা আপনি ফোন কিনতে যাওয়ার আগে করবেন।

কোন মডেলের ফোন কিনবেন তা আগেই নির্ধারণ করাঃ

আপনার অনেক সাধের জমানো অর্থ, আপনি Android ফোন কিনবেন বলে ভেবে রেখেছেন। কিন্তু সঠিক নিরদেশনার অভাবে দোকানী আপনাকে একখান চরম ভুয়া সেট ধরিয়ে দিলো, বাড়ি এসে দেখলেন তা আসলে Android ই না। এখন ফোন কে আছাড় মারবেন? নাকি দোকানীর কলার ধরবেন? নাকি নিজের বোকামীর জন্য নিজের চুল ছিঁড়বেন? মনে রাখবেন, একজন শিক্ষকের কাছে যেমন সকল ছাত্র সমান, তেমনি এক দোকানীর কাছে সকল ফোনই সমান। দোকানীর সাথে একটা ফোনের সম্পর্ক শুধু ক্রেতার হাতে তুলে দেয়া পর্যন্তই। একজন দোকানী তার ফোন বিক্রয়ের জন্য  আপনাকে অনেক কথাই বলবেন। যেমন, “ভাই, এই সেটের ফ্ল্যাশলাইটটা দেখেন। এই রকম আর কোন দোকানে  পাইবেন না। মার্কেট চ্যালেঞ্জ। এইরকম পাইলে আমি সেট ফ্রীতে দিমু।” তার কথার ধরনে মনে হবে যেন এই ফ্ল্যাশলাইট দিয়ে আকাশে মারলে টেলিস্কোপ দিয়ে আর গ্রহ তারা খুঁজতে হবে না। দোকানী নিজের সেট বিক্রয়ের জন্য অনেক কিছু বলবেন। কিন্তু আপনাকে এসব কথা কান দিয়ে বের করে যাচাই করে কাজ করতে হবে। এজন্য আপনাকে কোন অভিজ্ঞ লোকের পরামর্শ নিতে হবে। তেমন ব্যবস্থা না থাকলে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘুরে দেখতে পারেন। এতে আপনার ফোনের দাম সহ বিভিন্ন ফিচার সম্পর্কে জানা হয়ে যাবে। বিভিন্ন মোবাইল সম্পর্কে জানতে নিচে দেখুন।
এছাড়া বিভিন্ন পত্রপত্রিকাতে প্রায়শই বিভিন্ন রকম ফোনের বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। আপনি সেখান থেকেও নির্দিষ্ট ফোনটি বেছে নিতে পারেন। এছাড়াও আপনি বিভিন্ন দোকানে ঘুরে ঘুরে ফোনের ব্যাপারে জানবেন।

আপনার বাজেট আগেই ঠিক করে নেয়াঃ

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এটাই। কথায় আছে,”চাদর যতটুকু, পা ছড়ানোও উচিত ততটুকু।” ফোন কেনার ক্ষেত্রে আপনার বাজেট কতটুক তা আগেই নির্ধারণ করে নিবেন। এতে করে আপনি আপনার পছন্দসই মোবাইল কিনতেও পারবেন, কেনার পর বলতেও পারবেন আমি এটা কিনেছি। এমনটা আর হবে না যে “ইস! আর ২০০ টাকা থাকলে ওইটা নিতে পারতাম।” বিভিন্ন মোবাইলের বিভিন্ন দাম হয়। যেমন,
১. Android ফোনে Samsung এর ফোন কিনতে আপনাকে ২৮০০০-৬০০০০ টাকার মধ্যে বাজেট ধরতে হবে। (হ্যাঁ এর কম দামেও আছে তবে আমি আপনাকে কমদামী সেট দিয়ে ঠকাবো না)।
২. Sony Xperia ফোন গুলো কিনতে আপনাকে ৩০০০০-৬১০০০ টাকার মত বাজেট ধরতে হবে।
৩. আমাদের দেশীয় পন্য Walton এর ফোন কিনতে হলে আপনাকে ১০০০০-৩৫০০০ টাকা বাজেট ধরতে হবে।
৪. Winodows ফোন কিনতে হলে আপনাকে Nokia Lumia নিতে হবে। এর দাম ১৬৫০০-৪৫০০০ টাকা ধরে রাখতে হবে।
আরো অনেক লেখা যেত, তবে এতটুকই। ফোনের বাজেট আগেই ঠিক করে নিয়ে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ফোন কেনার স্থান সম্পর্কে পরামর্শঃ

এটা বলা কোন দরকার নেই। কিন্তু তবুও আপনাদের সুবিধার্থে আমি জিনিসটা আনলাম। ফোন কিনতে হলে আপনাদের আমি যে জায়গাতে যেতে বলবো সেটা হলো ওই কোম্পানীর শো-রুম। কারণ, ওখানে গেলে আপনি একদম পরিচ্ছন্ন ফোনটি পাবেন। সেই দামে যা সেটটির আসল দাম। দোকানীকে ১০০-২০০ টাকা লাভ দেয়ার কোন দরকারই থাকবেনা। তাছাড়া আপনি শো-রুম থেকে সেটটি নিলে নিশ্চিন্তেও থাকবেন। তবে সেটা করতে হয় যখন সেটটি বাজার গরম করেছে। মানে মাত্র মার্কেটে এসেছে। ২-৩ সপ্তাহ পর দেখা যায় শো-রুমে ওই সেটটা থাকেনা। তখন দোকানে গিয়ে কিনতে হয়। এক্ষেত্রে একটু সাবধানতা বজায় রাখবেন।

ফোন কেনার সময় যা যা লক্ষ্যনীয়ঃ

এখনকার সময়ের উপযোগী সেট Android. এই Android এর আবার ভারশন আছে ভিন্ন ভিন্ন। এখন চলে জেলী বিন ৪.১.২, জেলী বিন ৪.২.১ এবং ৪.২.২। এছাড়া চলে কিটক্যাট ৪.৪.১ এবং ৪.৪.২। তাই আপনাকে দোকানী ভালো সেট বলে এইসব ভারশনের নিচে কোন সেট যাতে আপনাকে ধরিয়ে না দেয় সেটা খেয়াল রাখবেন। এটা করতে ফোনের সেটিংসে যাবেন। সেখানে সবার নিচে পাবেন “About Phone”। সেটাতে গেলে আপনি পাবেন Android Version। সেটাই আপনার ফোনের Android ভারশন। এছাড়াও আপনি দামী সেটগুলোর মধ্যে বের করতে পারবেন না যে সেটা Original নাকি Clone. তাই দেখে নেবেন নিচের জিনিসগুলো।
১. *#*#4636#*#* চাপলে Usage Info, Battery Info, Wifi info ইত্যাদি নামে কোন মেনু আসে কিনা।
২. *#০৬# এটাতে সেটের IMEI নাম্বার দেখাচ্ছে কিনা।
৩. *#১৯৭৩২৮৬৪০# চাপলে সার্ভিস মোড দেখায় কিনা।
আরো জানতে হলে Asif ভাইয়ের এই টিউনটি দেখতে পারেন।
এবার আপনার যা করনীয় তা হলো বিক্রেতা আপনাকে ফোনের সাথে সব দিচ্ছে কিনা তা দেখে নেয়া। ফোন সেট, হেডফোন, চার্জার, ডাটা কেবল, ক্যাশ মেমো, ওয়ারেন্টি কার্ডে সাইন। এগুলোর একটাও না পেলে বিক্রেতাকে বলতে ভুল করবেন না।
এবার আপনার ফোন কেনা শেষ। এবার ফোনে দেখবেন স্ক্রিন পেপারটা যেটা আছে ওটা ফোনে ফিট হয়না। Quality টাও ভালোনা। দোকানে বলবেন ম্যাট পেপার লাগিয়ে দিতে। ম্যাট পেপার এর দাম ৭০-১০০ টাকা হবে। ফোনের মডেল অনুযায়ী ম্যাট পেপার পাবেন। এছাড়াও HD Paper পাবেন। এটা ম্যাট থেকে ভালো। দাম পড়বে ১৫০-২০০ টাকা। এছাড়া ব্যাক কাভারও লাগিয়ে নিতে পারেন। আপনার ফোনের মডেল অনুযায়ী ব্যাক কাভার পাবেন। দাম পড়বে ১২০ -২৮০ টাকা। যদি ফোনের সাথে মেমোরী কার্ড না পান তবে একটা আলাদা কিনে নেবেন। Android ফোনের জন্য আমি আপনাকে বলবো ১ জিবি, ২ জিবি না কিনে একবারে ৮ জিবি,১৬ জিবি নাতো একবারে ৩২ জিবি কিনে নেবেন। দাম পড়বে একটু বেশি। কিন্তু আপনাকে রোজ রোজ নতুন মেমোরী কার্ড কিনে নিতে হবেনা। দাম পড়বে ৫০০-১৭০০ টাকা। তাই আপনি ভেবে নিবেন আপনি কোনটা চান।

ফোন কিনে নিয়ে আসার পর করনীয়ঃ

ফোন কিনে বাড়িতে আসার পর যেটা আপনার প্রথম কাজ হবে সেটা হবে হলো সবাইকে মিষ্টি খাওয়ানো। আরে ভাই ফোন কিনে ফেলেছেন মিষ্টি খাওয়াবেন না? ফাজলামি লাগলেও এটা সত্যি। আমি ফোন কেনার পরে বাড়ি আসার পরে আমার ২০ জন বন্ধুকে খাওয়ানো লেগেছে। তবে এতে আমার ভালই লেগেছে। হ্যাঁ এবার আপনার কাজ হবে ফোনে চার্জ দেয়া। প্রায় ৮-১০ ঘন্টা চার্জ দেয়া লাগবে। জানি এই সময়টা আপনার জন্য অনেক কঠিন হবে। তবুও আপনার ফোনে চার্জ দেয়া জরুরী। তাই আপনি ফোন কিনতে সকাল সকাল মার্কেটে যাবেন। এতে সারাদিন চার্জে দিবেন আর রাতে খুলে অন করবেন। নাতো রাতে কিনে আনলে সারারাত চার্জ দিয়ে সকালে অন করতে হলে সারারাত আপনার ঘুমই হবে না। চার্জ দেয়ার মাঝখানে ফোন অন করবেন না অথবা চার্জার খুলে রাখবেন না। লোড-শেডিং হলে আপনার কিছু করার থাকবেনা। কিন্তু তবুও খুলবেন না। ৮-১০ ঘন্টা পর আপনার ফোন অন করার জন্য রেডি। এবার কি আমার পারমিশন নিবেন নাকি অন করতে?

ফোনে যে যে ধরনের Apps রাখবেনঃ

Android ফোন আপনাকে প্রায় সবকিছু করার অধিকার দিবে। কিন্তু তবে আপনার ফোনে নিম্নোক্ত Apps গুলো থাকা জরুরী।
১. Android Assistant (বলতে পারেন আপনার ফোনের ID Card)
২. Clean Master (মেমোরী ফ্রী করার জন্য)
৩. Antutu Benchmark (আপনার ফোনের পারফর্মেন্সের স্কোর)
৪.Andro Sensor (আপনার ফোনের সেন্সর গুলো দেখাবে)
৫. Bengali Dictionary (এটা আমি Suggest করছি। এটা লাগবে না?)
৬. Flashlight (এটা আপনার লাগবেই। আন্ধারে কেনু আঙ্গুলে গুতা না খাইতে)
৭. Any Share (এটা কি আপনাকে বলা লাগবে না। কিন্তু যারা জানেন না তাদের জন্য এটা হল বিদ্যুৎ গতিতে ফাইল এক Android থেকে আরেক Android এ Transfer করার App)
৮. Opera Mini Browser (এটা আপনার ফোনে ইন্টারনেট চালাতে লাগবে। খুবই কম ডাটা খায় এটা)
৯. Net Speed Meter (আপনার ইন্টারনেট স্পিড দেখাতে এটা দরকার)
১০. Ridmik Keyboard (আপনার ফোনে বাংলা টাইপ করতে এটা খুব দরকার)
১১. PowerAmp (ভাই ফোনে গান শুনবেন না, তা কি হয়?)
১২. BS Player (HD Video Song দেখতে পারবেন)
আরো আছে কিন্তু এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। বিভিন্ন Apps এর খোঁজ পেতে হলে এখানে ক্লিক করে দেখতে পারেন।

সাদামাটা ফোন চালানোকে রঙ্গিন করতে হুলেঃ

Android ফোন হল Smartphone. আর এই Smartphone যদি আপনি সাদামাটা ভাবে চালান, তবে অন্য ফোন চালানো আর এটা চালানোর মধ্যে কি পার্থক্য হল? হ্যাঁ Android ফোন কে আপনি সাদামাটাভাবে চালাবেন না। একদম নতুন অভিজ্ঞতার সাথে চালাবেন। এজন্য মোটামুটি ব্যবস্থা আমি আপনাকে দিতে পারবো। আপনি বিভিন্ন রকম launcher চালাতে পারেন আপনার ফোনে। যেটা আপনাকে প্রতিবার আপনার ফোন একদম নতুনের মত করে দিবে। এমন কিছু Launcher নিচে দেয়া আছে।
1. Next Launcher
2. TSF Shell Launcher
3. QQ laucnher
4. EZ Launcher
5. Espire launcher (এটা একদম I-phone এর মত)
6. Windows 7 Launcher
7. Winodows 8 Launcher
8. Smart Launcher
9. Holo Launcher
এমন অনেক রকম Launcher আছে যেগুলো আপনি আপনার ফোনে চালাতে পারেন। এছাড়াও আপনার ফোনে একটা ফিচার পাবেন HD Live Wallpaper. আপনার Wallpaper এ জীবন্ত চলমান ছবি দেখতে পাবেন।
এতে আছে GPS Navigation System. আপনি কোন Wi-Fi Network এর অভ্যন্তরে থাকেন তবে আপনি GPS এর মাধ্যমে কোথায় আছেন দেখতে পাবেন। অথবা আপনি কোথাও যাবেন কিন্তু ঠিকানা জানেন না। GPS এর মাধ্যমে ঠিকানা পেয়ে যাবেন।
এছাড়াও আছে Google এর বিভিন্ন সার্ভিস। আপনি Google এর সাথে যুক্ত হতে পারবেন। এবং Google Play Store থেকে বিভিন্ন Apps Download করতে পারবেন। G-mail এর সাথে থেকে প্রতিনিয়ত E-mails চেক করতে পারবেন। Facebook এ থেকে Updated থাকতে পারবেন। Skype দিয়ে যেকোনো সময়ে Video Call করতে পারবেন। এছাড়াও আরও অনেক কিছু করতে পারবেন।

গেমিংঃ

Android ফোন গেমিং এর জন্য বর্তমানে জনপ্রিয় ডিভাইস। এতে আপনি বর্তমানে Updated HD Game গুলো খেলতে পারবেন। যা আপনাকে গেম খেলায় অন্যরকম অনুভুতি দিবে। বিভিন্ন গেম এর মধ্যে আছেঃ
1. NFS Most Wanted
2. Fifa 14
3. Modern Combat 4
4. NFS Shift
5. PES 12. ইত্যাদি।
এসব বড় বড় গেম খেলতে পারবেন আপনি। আরো ছোট বড় Android Games এর জন্য এখানে ক্লিক করুন।

ব্যাটারী এর চিন্তাঃ

Android ফোনের বিশাল একটা সমস্যা হল ব্যাটারী। আপনি জীবনের নতুন স্বাদ নিতে থাকবেন। স্বপ্নের দুনিয়াতে থাকবেন কিন্তু বাস্তবতা আপনাকে টেনে বাস্তবে আনবেই। এই বাস্তবতা হল ব্যাটারী। যখন ফোনে ঘন্টি বাজবে ব্যাটারী লো। ফোনের পাছায় চার্জার লাগান। তখন আর ফোন চালানের মজা থাকবেনা। এই জন্য একটু রয়ে সয়ে আপনাকে ফোন চালাতে হবে। ফোনের চার্জ বেশিক্ষন ধরে রাখতে হলে আপনাকে যা যা করতে হবেঃ
১. ওরিজিনাল চার্জার দিয়ে চার্জ দিতে হবে।
২. একটানা ফোন না চালিয়ে মাঝ মাঝে গ্যাপ দিয়ে চালাবেন। এতে চার্জ অনেক দেরিতে শেষ হবে।
৩. ফোনের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখবেন।
৪. 3g অথবা 4g এর বদলে wi-fi দিয়ে ইন্টারনেট চালাবেন। এতে চার্জ কম খাবে।
৫. যে কোনো প্রোগ্রাম ব্যবহার শেষে সেটা সম্পূর্ণ বন্ধ করবেন। ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রোগ্রাম চললে চার্জ যেতে থাকবে।
৬. মাঝে মাঝে ফোন রিস্টার্ট দিবেন।
৭. দরকার ছাড়া ব্লুটুথ, Wi-fi, GPS বন্ধ রাখবেন।
৮. চার্জার পাছায় লাগিয়ে কাজ করবেন না।
৯. লো ব্যাটারীতে কোন কাজ করা উচিত না।
১০. ভাইব্রেশন বন্ধ রাখুন।
এছাড়া বিভিন্ন রকম Battery Saver Apps ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে আমি Juice Defender কে Suggest করছি। এছাড়াও আছে Easy Battery Saver, Battery Doctor, Du battery saver ইত্যাদি।

র‍্যাম ক্লিনিংঃ

Android ফোনে কোন App close করলেও তা সম্পূর্ণ close হয় না। তা ফোন ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে। সেটা ফোনের র‍্যাম মেমোরী দখল করে বসে থাকে। তাই পরে ফোন স্লো করে ফেলে। তাই ফোনের র‍্যাম নিয়মিত ক্লিন করা জরুরী। জেলী বিন সহ উপরের ফোন গুলোতে Apps Close করলে হিস্টোরীতে গিয়ে জমা হয়। ফোনের হোম বাটনে চাপ দিয়ে ধরে থাকলে apps গুলোর লিস্ট পাওয়া যায়। সেটা ডানে বা বামে Swipe করলে ক্লিন হয়ে যায়। জিঞ্জারব্রেড বা আইস্ক্রিম স্যান্ডউইচ এ Task Manager Open করে র‍্যাম ক্লিন করতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন Apps আছে যা দিয়ে র‍্যাম ক্লিন করা যায়। যেমনঃ
1. Ram Cleaner Pro
2. Ram Booster
3. Memory Booster
4. Ram Manager ইত্যাদি।

রুটঃ

Android ফোনে একটা মজাদার ও গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হল এই Root. ফোন রুট থাকলে আপনি আপনার ফোনে অনেক ধরনের কাজ করতে পারবেন। যেমন রিমোট হিসেবে কম্পিউটারের সাথে ব্যবহার করা যায়,অনেক অবাঞ্ছিত Apps ফ্রিজ করা যায়, র‍্যাম বাড়ানো যায় ইত্যাদি। এক এক ফোনের রুট পদ্ধতি এক এক রকম। তাই এ ব্যাপারে টেক টিউন্সে বিভিন্ন পোস্ট দেখতে পারেন। তবে সাবধান! রুট করলে আপনার ফোনের ওয়ারেন্টি থাকবেনা। আবার ফোন হ্যাং করতেও পারে। তখন আবার অনেক দৌড়াদৌড়ি হবে। তাই যা করবেন একটু সাবধানে করবেন।

ক্যামেরাঃ

এ ব্যাপারে আশা করি আপনাকে নতুন করে কিছু বলতে হবে না। আপনি ভাল করেই বুঝেন ক্যামেরা ফিচারটা কি জিনিস।এখন কার সকল Android ফোনে ভাল মানের ক্যামেরা দিচ্ছে। যা আপনাকে আলাদা করে ডিজিটাল ক্যামেরার অভাব পূরণ করে দিবে। এখন কার ভাল ফোন গুলোতে ১৫-২৫ মেগাপিক্সেল পর্যন্ত ক্যামেরা কোয়ালিটি দিচ্ছে। এখন কার ফোন গুলাতে দুটো ক্যামেরা থাকে। একটা ফ্রন্ট ক্যামেরা, আরেকটা রেয়ার ক্যামেরা। রেয়ার ক্যামেরা দিয়ে আপনি ছবি তুলবেন। আর ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও কল করতে পারবেন।

OTG:

OTG মানে হল On The Go. মানে Android ফোনে USB System দিয়ে চালানো। বিভিন্ন মডেম, পেন্ড্রাইভ ইত্যাদি তে USB System করা থাকে। বাজারে OTG Cable কিনে তা ফোনে লাগিয়ে অপর দিকে USB Modem, Pendrive ইত্যাদি লাগিয়ে ইন্টারনেট অথবা পেন্ড্রাইভ ব্যবহার করতে পারেন। একটা OTG কেবল আপনি ৮০-১৩০ টাকার মধ্যে পেতে পারেন।

শেষ কথাঃ

শেষ কথা হল আপনার ফোন। আপনি যেভাবে মনে চায় ব্যবহার করতে পারেন। আমি শুধু আপনাকে কিছু সাজেশন দিলাম কিভাবে আপনার Android ব্যবহার কে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন।Android ফোন চালান, নিজের জীবন কে রাঙ্গিয়ে তুলুন।

বিঃদ্রঃ

নতুন পোষ্ট আপডেট ইমেইলের মাধ্যমে জানুন

* indicates required