সোমবার, ১০ মার্চ, ২০১৪

৩২ এবং ৬৪ বিটের পার্থক্য

প্রযুক্তির এই সময়ে এখন কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক। আগের মত এখন আর কম্পিউটারের দেখা শুধু বিজ্ঞানাগার, অফিস আদালত অথবা বাসাতেই দেখা যায়না বরং এখন কিছু কিছু মুদি দোকানেও অনেক সময় কম্পিউটার দেখে অবাক হয়ে যেতে হয়। তবে অবাক হবার মূলত কিছুই নেই, একজন মুদি দোকানদার কেন প্রযুক্তির আলো থেকে বঞ্চিত হতে যাবেন! যাই হোক, কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম না হলেও কম্পিউটার সংক্রান্ত এমন অনেক বিষয়ই আছে যেগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীদের অজানা। এরকম বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ’৩২ বিট এবং ৬৪ বিটের প্রসেসর’। অনেকেই আছে এই বিষয়টি বোঝেন না। তাই আজকে আমি ৩২ এবং ৬৪ বিটের পার্থক্য নিয়ে আলচোনা করে বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করব।

....আপনারা হয়ত খেয়াল করেছেন যে এখনকার সময়ে ইন্টারনেট থেকে কোন একটি সফটওয়্যার ডাউনলোড করার সময় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঐ একই সফটওয়্যারটি দুটি বিট ভার্শন আকারে পাওয়া যায়। কেননা, ৩২ বিট এবং ৬৪ বিটের প্রসেসর এবং এই কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমও বিট ভিত্তিক হয়ে থাকে। যদিও, বেশির ভাগ ৩২ বিটের সফটওয়্যার ৬৪ বিটের অপারেটিং সিস্টেমে কাজ করে থাকে তবে ৬৪ বিটের সফটওয়্যার ৩২ বিটের অপারেটিং সিস্টেমে কাজ করেনা আর কিছু ক্ষেত্রে কাজ করলেও তাতে অনেক প্রকার সমস্যা দেখা যায়। যাই হোক, চলুন জেনে নেই ৩২ বিট এবং ৬৪ বিটের পার্থক্যগুলো।
পার্থক্যঃ
• আমাদের কম্পিউটারের মাঝে Kernel Patch Protection থাকে যা উইন্ডোজের নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কিত। কম্পিউটারের প্রসেসর, হার্ডওয়্যার, ডিভাইস ড্রাইভার এর সাথে অন্যান্য সফটওয়্যারের সমন্বয় রক্ষা করে চলার একটি পদ্ধতি হচ্ছে kernel এবং এই kernel – এর উপর ভিত্তি করেই কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম তৈরী করা হয়ে থাকে। ৩২ বিটের চাইতে ৬৪ বিটে উইন্ডোজের এই kernel patch protection অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে।
• আমরা আমাদের কম্পিউটারে অনেক রকম হার্ডওয়্যারের জন্য বিভিন্ন ড্রাইভার ব্যবহার করে থাকি। এই ড্রাইভারগুলো নির্মান করার সময় নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একটি ডিজিটাল সাইন এর মাঝে দিয়ে দেয়। ভাইরাস দ্বারা কম্পিউটার আক্রান্ত হয়ে গেলে সেই ডিজিটাল সাইন গুলো কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন হয়ে যায় যার কারনে উইন্ডোজ সমস্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেমে ডিজিটাল সাইন ছাড়া ড্রাইভার ইন্সটল করা যায়না। ৩২ বিটের জন্যেও এরকম সেটিং করে রাখা যায় তবে এই সেটিংটি ডিফল্ট ভাবে দেয়া থাকেনা।
• ৬৪ বিট সমর্থিত প্রসেসরে ৩২ অথবা ৬৪ বিট – দু’ধরনের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা গেলেও ৩২ বিট সমর্থিত প্রসেসরে শুধু মাত্র ৩২ বিট অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা যায়।
• ৩২ বিটের জন্য সাধারণত ৫১২ মেগাবাইট থেকে ৪ গিগাবাইট পর্যন্ত র‍্যাম রিকোমেন্ড করা হয় যেখানে ৬৪বিটের জন্য ৪ গিগাবাইট ব্যবহার করার জন্য বলা হয়। এর চেয়ে কম হলেও চলে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল ৪ গিগাবাইটের উপর র‍্যাম ব্যবহার করতে চায়লে অবশ্যই ৬৪বিট প্রসেসর আর উইন্ডোজ ব্যবহার করতে হবে। কারণ ৩২ বিটে ৪ গিগাবাইটের উপর র‍্যামম ব্যবহার করা হলেও তা ব্যবহৃত হয় না। এমনকি অনেক সময় সর্বোচ্চ ৩ গিগাবাইট পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়ে বাকিগুলো র‍্যাম অব্যবহৃত থেকে যায় কারণ হার্ডওয়ার সাপোর্ট করে না। অন্যদিকে ৬৪বিটে ১ গিগাবাইট থেকে ১২৮ গিগাবাইট এর চেয়ে বেশি র‍্যাম সাপোর্ট করে।
• যে সব কাজের জন্য বেশি র‍্যাম প্রয়োজন তার জন্য ৬৪বিটের বিকল্প নেই। যেমন হলিউডের যে ফিল্মগুলো তৈরি করা হয় তাতে সব ৬৪বিটের প্রোগ্রামগুলোই ব্যবহার করা হয়। তেমনি 3D, High powerful Graphics আর Multimedia’র জন্য ৬৪বিট একমাত্র সমাধান।
• আমি উপরেই লিখেছি যে – বেশির ভাগ ৩২ বিটের সফটওয়্যার ৬৪ বিটের অপারেটিং সিস্টেমে কাজ করে থাকে তবে ৬৪ বিটের সফটওয়্যার ৩২ বিটের অপারেটিং সিস্টেমে কাজ করেনা আর কিছু ক্ষেত্রে কাজ করলেও তাতে অনেক প্রকার সমস্যা দেখা যায়। ৬৪ বিটের প্রোগ্রামগুলো ৩২বিটের চেয়ে পারফরমেন্স ভাল দেখায়। যেমন ক্রাশ করা বা এরকম অন্যান্য সমস্যাগুলো থেকে ৬৪বিট প্রোগ্রামগুলো মুক্ত বললেই চলে।
উপরের পার্থক্য গুলো থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে ৩২ বিটের তুলনায় ৬৪ বিট অনেক ক্ষেত্রেই ভালো।
যেভাবে বুঝবেন আপনার কম্পিউটারটি ৬৪ বিট না ৩২ বিটঃ
64-bit-win7
আগেই বলা হয়েছে যে আপনি যদি ৬৪ বিটের অপারেটিং সিস্টেম এবং সফটওয়্যার ব্যবহার করতে চান তবে আপনার প্রসেসরকে অবশ্যই ৬৪ বিট সমর্থন করতে হবে। আপনি যদি এখনো না জেনে থাকেন যে আপনার প্রসেসরটি ৬৪ বিট সমর্থিত কি না এর জন্য আপনি Start Menu > My Computer > Properties – এ গেলেই দেখতে পারবেন। অথবা, CPU-Z নামের সফটওয়্যারটির মাধ্যমেও আপনি দেখে নিতে পারেন।
আশা করি, যারা ৩২ বিট এবং ৬৪ বিট সম্পর্কে জানতেন না তারা এ বিষয়টি কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছেন।

নতুন পোষ্ট আপডেট ইমেইলের মাধ্যমে জানুন

* indicates required